
বর্ষা বা স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ায় বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও অণুজীব দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। ফলে খুব সহজেই খাবার পচে যায় কিংবা বিষাক্ত হয়ে পড়ে। এই সময়ে মানুষের পরিপাকতন্ত্র এবং হজম প্রক্রিয়াও কিছুটা ধীর হয়ে পড়ে, যার ফলে পেটে গ্যাস, বদহজম এবং হঠাৎ ফুড পয়েন্টনিংয়ের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই দিনগুলোতে নির্দিষ্ট কিছু খাবার এড়িয়ে চলা ও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন।
ইউএস সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (CDC)-এর তথ্য অনুযায়ী, রান্নার ক্ষেত্রে সামান্য অসাবধানতাও ডেকে আনতে পারে বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি।
যে ৭টি খাবার ব্যবহারে বেশি সতর্ক হবেন:
- কাঁচা বা আধসেদ্ধ মাংস: ভালোভাবে সেদ্ধ না করা মুরগি কিংবা গরুর মাংসে সালমোনেলা এবং ই. কোলাই-এর মতো মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে।
- কাঁচা ডিম ও মেয়োনিজ: কাঁচা ডিম বা তা দিয়ে তৈরি কাঁচা পুডিং, ঘরে তৈরি মেয়োনিজ খাদ্যবাহিত রোগ সৃষ্টি করে।
- সামুদ্রিক খাবার ও সুশি: দূষিত পানির কাঁচা মাছ বা সুশিতে ক্ষতিকর ভাইরাস ও টক্সিন জমে থাকে।
- অপাস্তুরিত দুধ ও পনির: কাঁচা বা অপাস্তুরিত দুধ থেকে তৈরি পনিরে লিস্টেরিয়ার মতো বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া থাকে।
- অর্ধ-ধোয়া ফল ও শাকসবজি: না ধুয়ে কাঁচা শাকসবজি বা সালাদ খেলে মাটির জীবাণু সরাসরি পেটে চলে যায়।
- ঘরের তাপমাত্রায় রাখা ভাত ও পাস্তা: রান্না করা ভাত, নুডলস বা পাস্তা দীর্ঘক্ষণ সাধারণ তাপমাত্রায় রেখে দিলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধে।
- ডেলি মিট ও কেনা সালাদ: বাজারে আগে থেকে বানিয়ে রাখা কোলস্লো, পটেটো সালাদ বা প্যাকেটজাত মাংস স্লাইস দ্রুত নষ্ট হয়।
ফুড পয়েন্টনিং এড়াতে নিরাপদ অভ্যাসে ফিরুন:
- সঠিকভাবে ধোয়া ও হাত পরিষ্কার: ফল-সবজি ভালো পানিতে ধোবেন এবং খাবার বানানোর আগে-পরে অন্তত ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করবেন।
- কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখা: কাঁচা মাংস বা মাছের ব্যাকটেরিয়া যেন কোনোভাবেই রেডি-টু-ইট বা রান্না করা খাবারের সংস্পর্শে না আসে।
- সঠিক তাপমাত্রায় রান্না: খাবার ভালোভাবে সেদ্ধ বা ফুটিয়ে রান্না করুন, প্রয়োজনে ফুড থার্মোমিটার ব্যবহার করতে পারেন।
- দ্রুত ফ্রিজিং: রান্না করার সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টার মধ্যে বেঁচে যাওয়া খাবার রেফ্রিজারেটরে (৪° সেলসিয়াসের নিচে) সংরক্ষণ করুন।
এনএন/ ২২ আগস্ট ২০২৬



